হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় চিকিৎসকদের পরামর্শ…

0

স্কাই নিউজ প্রতিবেদক: এই শীতেই শরীরে থাবা বসায় হাজারো অসুখ। কারও নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি পড়ছে তো কারও গলা ফুলে ঢোল। ঢোক গিলতে গেলেই লাগছে। পায়ে মোজা পরলেও কেন আটকানো যাচ্ছে না ঠান্ডা? চিকিৎসকরা বলছেন, মার্বেলের মেঝেতে শুধু মোজা পরে হেঁটে লাভ নেই। পায়ে দিতে হবে হাওয়াই চটি। ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই রোজ গোসল করতে চান না এ সময়। নয়া প্রেসক্রিপশনে, রোজ কনকনে ঠান্ডা পানি গায়ে ঢালাটা কোনও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং ঠান্ডা পানির সঙ্গে ঈষৎ উষ্ণ পানি মিশিয়েই গোসল করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

কারণ? মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শীতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক ভাবে হয় না। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গিয়ে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে ট্যাঙ্কের ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে বয়স্কদের ক্ষেত্রে স্ট্রোক অথবা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে অল্প গরম পানি মিশিয়ে নিলে ভাল থাকবেন প্রৌঢ়-প্রৌঢ়ারা।

ইএনটি-র সমস্যাও মাথাচাড়া দেয় শীতের সময়েই। ডাবের পানি খেয়ে গলায় ব্যথা! গলায় সংক্রমণের প্রবণতা থাকলে পৌষ-মাঘে ডাবের পানি নৈব নৈব চ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ডাবের পানি খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। এমন ধারণা অনেকেরই আছে। কিন্তু শীতে ডাবের পানি না খাওয়াই শ্রেয়। গলায় সংক্রমণের সম্ভাবনা দ্বিগুণ এই পানিতে ।’

শীতে ত্বকের রুক্ষতা নিয়েও ভুল ধারণা রয়েছে অনেকের মধ্যে। ‘তেল মেখে গোসল করছি। তাও গায়ে রাশ বেরচ্ছে কেন?’ চেম্বারে এমন প্রশ্ন হামেশাই শুনতে হয় চিকিৎসকদের। ত্বকের এই রাশের পিছনে প্রধান শত্রু সরষের তেল। ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথের চিকিৎসক ডাঃ প্রভাস প্রসূন গিরির কথায়, ‘শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্প কমে যায়। ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে। ত্বকের শুষ্কতা হটাতে তেল মেখে গোসল করার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু সরষের তেল না মাখতেই পরামর্শ দিই আমরা। ফি বছর দেখা যায় চেম্বারে এমন অনেকেই আসেন যাঁদের ত্বকে ইরিটেশন হয়েছে সরষের তেলে।’

শীতের খাওয়া-দাওয়াতেও কিছু নিয়ম মানা দরকার। শুষ্ক আবহাওয়ায় বেশি পানি খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ঠান্ডায় পানি মুখে দেওয়া দুস্কর। লক্ষ করলে দেখা যাবে, বছরের এই দু’মাস প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম পানি খান। খাওয়ার অভ্যেস ধরে রাখতে ফ্লাস্কে ঈষৎ উষ্ণ পানি রেখে দেওয়ার নিদান দিয়েছেন ডাক্তাররা। শীত জুড়ে ছড়ানো হরেক ভাল থাকার উপাদানও। ডাক্তাররা বলছেন- ‘শীতেই সবচেয়ে বেশি মরশুমি শাকসবজি পাওয়া যায়। বছরের এই সময়টায় মরশুমি ফল খান। শাকসবজি খান। তাতেই বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।’

চিকিৎসকদের পরামর্শ-

গায়ে সরষের তেল নয়, সরষের তেলে গায়ে রাশ বেরোয়। স্কিন ইরিটেশন হয়। বাজার চলতি বডি অয়েল অথবা নারকেল তেল মাখা যেতে পারে।

হাঁটাহাঁটি অথবা খেলাধুলা করার সময় খুব বেশি ভারী পোশাক না পরাই শ্রেয়। ঘাম বসে জ্বর আসতে পারে।

চুল লম্বা হলে সপ্তাহে দু’বারের বেশি চুল ভিজিয়ে গোসল নয়।

শীতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয় না। তাই স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়ে। এমনিতেই রক্তনালি সংকুচিত হয়, ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে তা আরও তরান্বিত হয়। হার্ট অ্যাটাক এড়াতে ঈষৎ উষ্ণ পানি মিশিয়ে গোসল করতে বলছেন চিকিৎসকরা।

ডাবের পানি থেকে দশ হাত দূরে থাকাই শ্রেয়। শীতে ডাবের পানি গলায় সংক্রমণ বাড়ায়।
নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করতে আঙুলে অল্প পানি নিয়ে নাকের ভিতর দিতে হবে। জোরে নাক ঝাড়বেন না।

বাড়িতে এসি চালালে কখনওই যেন তা ২৭ এর নিচে না নামে।

খালিপায়ে ঘরে হাঁটবেন না। মোজা পরলেও পাতলা চটি পায়ে দিয়ে হাঁটা উচিত।

LEAVE A REPLY

5 × 3 =