স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শকুনি বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ

0

স্কাই নিউজ প্রতিবেদক: গোটা বিশ্বেই শকুনির সংখ্যা কমে চলেছে৷ ফলে পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে৷ স্পেনে শকুনিদের বাঁচাতে এক অভিনব প্রকল্প চলছে৷
স্পেনের পিরেনিস পর্বতের আকাশে এখনো এই শকুনিদের আধিপত্য৷ পশুপাখির মৃতদেহ দূর করে এককালে গোটা ইউরোপে ইকোসিস্টেম অক্ষত রাখায় এদের বড় ভূমিকা ছিল৷ বর্তমানে মানুষই তাদের খাদ্যের সন্ধানে সাহায্য করছে৷ যেমন আন্টোনি মার্গালিডা ও জর্ডি কানুট৷ প্রতি শনিবার জর্ডি কানুট পাহাড়ে উঠে শকুনিদের খাওয়ান৷

ইউরোপের শকুনি প্রজাতিগুলি পশুর মৃতদেহের নির্দিষ্ট কিছু অংশের বিশেষজ্ঞ৷ যেমন গ্রিফন ভালচার ও সিনেরেয়াস ভালচার কোনো মাংস অবশিষ্ট রাখে না৷ বেয়ার্ডেড ভালচার হাড়গোড় খায়৷ তুলনামূলকভাবে ছোট ইজিপ্সিয়ান ভালচার বাকিদের খাওয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে৷ যা অবশিষ্ট থাকে, সেগুলি কুড়িয়ে খায়৷ এমনকি মাটি থেকে রক্তও শুষে নেয়৷

শকুনিরা প্রকৃতির কোলে পশুর মৃতদেহ দূর করে৷ অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ৷ কারণ সেই মৃতদেহ থেকে রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে, মাটি ও পানিতে অ্যানথ্র্যাক্সের মতো মারাত্মক জীবাণু ও বিষ মিশে যেতে পারে৷ অথচ তাতে শকুনির কিছু হয় না৷

শকুনিদের হজমের অসাধারণ প্রক্রিয়া এই ক্ষমতা সম্ভব করে তোলে৷ তাদের পাচকরস এতই টক যে, সব জীবাণু মরে যায়৷ অ্যাসিডের মধ্যে পড়ে যেমন সবকিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, এ ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটে৷

তাছাড়া শকুনির আন্ত্রিক কাঠামোয় ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য কম৷ মানুষের পেটে ১,০০০-এরও বেশি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থাকে৷ শকুনির ক্ষেত্রে সংখ্যাটা মাত্র ৭৬৷ তবে তার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক কিছু ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যেমন ক্লসট্রিডিয়াম বোটুলিনাম৷ এই সব ব্যাকটেরিয়া পশুর মৃতদেহ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করতে সাহায্য করে৷

গোটা ইউরোপেই শকুনির খাদ্য কমে চলেছে৷ কারণ আইন অনুযায়ী মানুষকেই পশুর মৃতদেহ দূর করতে হয়৷ ‘ম্যাড কাউ ডিজিজ’ দেখা দেবার পর স্পেনেও আইন কড়াকড়ি করা হয়েছিল৷

LEAVE A REPLY

3 × three =