স্বাস্থ্যের ভিত্তি কি  অন্ত্রের জীবাণু?

0

স্কাই নিউজ প্রতিবেদক: অন্ত্রে যে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়ার বাস, তাদের রকম আর বৈচিত্র্যের সঙ্গে নাকি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সম্পর্ক আছে, বলছেন হাইডেলব্যার্গের বিজ্ঞানীরা৷

ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে দেখলে তবে বোঝা যায়: আমাদের অন্ত্রে কোটি কোটি জীবাণু বাস করে৷ আমরা সুস্থ থাকি বা অসুস্থ হয়ে পড়ি – এ সবই নির্ভর করে এই জীবাণুদের ওপর৷ ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মলিকিউলার বায়োলজির ড. পেয়ার  বর্ক বলেন, ‘‘জীবাণুদের প্রভাব আগে যা ভাবা গিয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি৷ আমরা সবে এই ধাঁধার প্রাথমিক টুকরোগুলো জোড়া দিতে শুরু করেছি৷”

তিনি জানালেন, ‘‘আমাদের প্রত্যেকের শরীরে দেড় কিলো পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া বাস করে৷ মানুষের অন্ত্রকে টেনে বের করলে, তা দু’টো টেনিস কোর্ট ঢেকে দিতে পারে৷ কাজেই আমরা এখানে মানুষ ও জীবাণুর মধ্যে আদানপ্রদানের এমন সব নমুনা দেখি, যা দেখলে চমকে যেতে হয়৷”

পেয়ার বর্ক বলেন, আমদের জীবাণুর প্রয়োজন৷ তাদের কল্যাণে আমরা খাদ্য থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করি৷ বর্ক আবিষ্কার করেছেন যে, মানুষ ও তার জীবাণুরা বিভিন্ন ধরণের হয়, তাদের ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীতে ভাগ করা যায়৷ ব্লাড গ্রুপের মতো অন্ত্রও তিন ধরনের হয়: অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষের খাবার হজম করার প্রক্রিয়া আলাদা, যা নির্ভর করে তার পেটে কী ধরণের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, তার উপর৷

এক বিশেষ ধরণের ইনটেস্টিনাল ফ্লোরা মানুষকে মোটা করে দেয়৷ গবেষণায় দেখা গেছে যে, মোটা মানুষ আর রোগা মানুষদের পেটের জীবাণুর বৈচিত্র্যে তফাৎ আছে৷ যে সব মানুষের পেটে নানা প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া নেই, তাদের সমস্যা আছে৷

বর্ক বলেন, ‘‘স্থূলতা বা মেদবাহুল্য নিয়ে জরিপ থেকে জানা গেছে যে, মোটা মানুষদের এক-চতুর্থাংশের অন্ত্রে জীবাণুর বৈচিত্র্য কিছুটা কম, যার ফলে তাদের পেটের প্রদাহের ঝুঁকি বেশি – যা খুব ভালো কথা নয়৷”

চিকিৎকরা দেখেন যে, অন্ত্রের প্রদাহ রোগের ক্ষেত্রে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলি তাদের ভারসাম্য হারিয়েছে৷ ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলি কমে গেছে, খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলির পরিমাণ বেড়েছে৷ এছাড়া সুস্থ মানুষদের তুলনায় ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্যও কম৷ গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল স্পেশালিস্ট ড. ব্রিটা সিগমুন্ড বলেন, ‘‘কিন্তু অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল এই তথ্য যে, দীর্ঘমেয়াদি পেটের রোগীদের অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য তুলনায় কম হয়৷ ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য কমে যায়, যত ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে, তারা কমে যায়৷ সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি হয়৷ তবে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটা বড় অংশ এই অন্ত্রেই রয়েছে৷”

মাস্টিপল স্ক্লেরোসিস, ডায়াবেটিস, এমনকি হৃদরোগের উৎপত্তিও অন্ত্র থেকে হতে পারে, বলে সিগমুন্ডের ধারণা৷ তিনি জানতে চান, অন্ত্রের জীবাণু আর মানুষের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কিভাবে পরস্পরকে প্রভাবিত করে ও ইন্টসেটিনাল ফ্লোরা পাল্টে রোগ ভালো করা সম্ভব কিনা – যেমন অন্ত্রের জীবাণুগুলোকে বদলানোর থেরাপি করে৷ সেভাবেই হয়তো ভবিষ্যতে ক্রনিক অসুখবিসুখ সারানো যাবে৷

LEAVE A REPLY

5 × 4 =