সরকারি কর্মকর্তাদের ‘দুদক’ আতঙ্ক

0

আল-মামুন, খাগড়াছড়ি থেকে : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আতঙ্ক বিরাজ করছে বিভিন্ন সরকারি অফিসের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের মধ্যে। খাগড়াছড়ির সাবেক সিভিল সার্জন নারায়ন চন্দ্র দাশ, রাঙামাটির বর্তমান সিভিল সার্জন ও খাগড়াছড়ির সাবেক সদর উপজেলার মেডিকেল অফিসার ডা: শহীদ তালুকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রিয় কুমার চাকমাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ও স্বাস্থ্য বিভাগের ফার্মাসিষ্ট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফার্মাসিস্ট পদে কর্মরত উদয়ন চাকমাকে গ্রেফতারের পর থেকে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দুদক কর্মকর্তাদের খাগড়াছড়িতে অবস্থানের খবরে এ আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়ি সড়ক জনপথ,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড,পার্বত্য জেলা পরিষদ, বিআরটিএ, গণপূর্ত, এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশল, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, বন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিস, ভূমি অফিস, পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ, শিক্ষা অফিস, খাদ্য অফিসসহ কয়েকটি সরকারি অফিস ঘুরে কর্মকর্তাদের মাঝে দুদক আতঙ্কের কথা জানা যায়।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কার্যালয়ের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা অফিসে প্রবেশে যেমন কড়াকড়ি আরোপ করেছে, তেমনি কেউ প্রবেশ করলে তার দিকে চেয়ে থাকেন অসহায়ের মতো। পরিচয় পাওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কথা শুরু করেন। গণমাধ্যম কর্মীদেরও বিশ্বাস করছেন না, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা।

এর আগে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়িতে চেক জালিয়াতির মামলায় অমলেন্দু চাকমা নামে এক ঠিকাদারকে আটক করে দুর্নীতি দমন কমিশন। জেলা শহরের পানখাইয়াপাড়া এলাকা থেকে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। সমন্বিত দুর্নীতি দমন কমিশনের রাঙ্গামাটির উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমান ভূঁইয়া জানান, জামানতের ৩ লাখ ৫ হাজার টাকার একটি ভুয়া চেকের মাধ্যমে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি সেতু নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ হাসিল করে নেন ঠিকাদার অমলেন্দু চাকমা। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।

এরপর একই বছরের পরবর্তী মাসে ৭মার্চ খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। খাগড়াছড়ি দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও জেলা প্রশাসন এ গণশুনানির আয়োজন করে। খাগড়াছড়িতে সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয় আয়োজনে। শুনানিতে বক্তারা জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল হকের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন- দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম। এর আগে ২০১৬ সালের ১৬মে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আতœসাতের অভিযোগে খাগড়াছড়ি অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক করুনা বিকাশ চাকমাকে দুদকের উপ-পরিচালক সফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আটকের ঘটনা বেশ সাড়া ফেলে জেলায়।

জানা গেছে, খাগড়াছড়িতে ২০১৩ সালে স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য প্রদান ও তথ্য গোপন এবং প্রতারণায় যে মামলা করেছে দুদক, সেই মামলার পর হতে যেমন আতঙ্কে বিরাজ করছে তেমনি কে, কখন আটকের তালিকায় পড়ছে তাও রীতিমত ভাবনায় ফেলেছে।

তবে স্থানীয়রা আশাবাদী, সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন হতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনিয়ম দুর্নীতি রুখতে ‘দুদক’ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

প্রসঙ্গত: বুধবার খাগড়াছড়ি সদর থানায় দুদক’র রাঙামাটি সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ফার্মাসিস্ট নিয়োগে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে সাবেক খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন নারায়ন চন্দ্র দাশ ও রাঙামাটির বর্তমান সিভিল সার্জন ডা: শহীদ তালুকদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। সদর থানার মামলা নং-১২ এর প্রেক্ষিতে ওই দিন বিকালে দীঘিনালা থেকে বাবুছড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফার্মাসিস্ট পদে কর্মরত উদয়ন চাকমাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মামলার অপর আসামীরা পলাতক রয়েছে।

 

 

LEAVE A REPLY

1 × 1 =