সভ্যতার তুমুল অগ্রগতি!

0

স্কাইনিউজ প্রতিবেদক: একদল সুইডিশ বিজ্ঞানী চেষ্টা করছেন, মৃত ব্যক্তির ডিজিটাল কপি তৈরি করার! এআই অর্থাৎ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রয়োগ করে তাঁরা আবার তাঁদের ফিরিয়ে আনতে চান রক্তমাংসের পৃথিবীতে, যাঁরা এই নশ্বর জীবনের পালা সাঙ্গ করে ফিরে গিয়েছেন!

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, সুইডিশ অন্ত্যেষ্টি এজেন্সি ফিনিক্স এই গবেষণার জন্য মৃতদেহ চাইছে ইন্দোনেশিয়ার টোরাজন জনজাতির কাছ থেকে।

প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়ার এই বিশেষ জনজাতি মৃতদেহকে কবর দেয় না বা দাহ করে না। রেখে দেয় নিজেদের কাছেই! মৃত প্রিয়জনদের একটি বিশেষ ঘরে রেখে দেওয়া হয়। প্রত্যেক দিন সেই মৃত মানুষদের গোসল করিয়ে জামাকাপড় বদলে দেওয়া হয়। দেওয়া হয় খাবারদাবার। এখানেই শেষ নয়, একটি বড় বাটিও রাখা হয় ঘরের কোণে। এই বাটি রাখার উদ্দেশ্য, যেন মৃত ব্যক্তিরা ওই বাটিতে শৌচকর্ম করবেন! মৃতদের শরীরে ফরম্যালিন প্রয়োগ করে তাদের শারীরিক পচন রোখা হয়। এই ভাবে বছরের পর বছর ধরে মৃত মানুষদের দিনরাত কাটে জীবিতদের সঙ্গেই।

সেই সংরক্ষিত মৃতদেহকেই ‘জীবিত’ করতে চান বিজ্ঞানীরা। তাঁরা মৃত মানুষের রোবটিক ক্লোন তৈরি করতে চান। ক্লোন মানে একেবারে তাঁদের অবিকল সমদর্শী। শুধু চেহারার মিল নয়, এরা কথাও বলবে। তবে খুব জটিল কোনও প্রশ্ন নয়, দৈনিক জীবন বা আবহাওয়া সংক্রান্ত প্রশ্ন— এই ধরনের বিষয়ে তারা কথা বলতে পারবে।

সত্যিই কি সম্ভব এমন ক্লোন বানানো? বিশ্বখ্যাত গবেষক মিচিও কাকু জানাচ্ছেন, এমনটা অবশ্যই সম্ভব, যদি সেই মৃত ব্যক্তির সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য কোনও কম্পিউটারে জমা করে রাখা যায়। তাহলেই সম্ভব সেই মানুষটিকে অমর করে রাথা!

প্রসঙ্গত, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে মৃত ব্যক্তির ক্লোন বানানোর প্রক্রিয়ায় কোথায় যেন উঠে আসছেন স্টিফেন হকিংও। ৭৬ বছরের বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞানী বার বার সতর্ক করেছেন এই বিষয়টি সম্পর্কে সাবধানে থাকতে। অন্যথায় এআই হয়ে উঠতে পারে সভ্যতার সবথেকে বড় শত্রু!

টেসলার চিফ এগজিকিউটিভ মাস্কও একই কথা বলেছেন। যদিও তাঁর কোম্পানিও নাকি তৈরি করছে ‘নিউরাল লেস’ টেকনোলজি। যা কি না মস্তিষ্কের ভাবনাকে ধরে রাখতে সক্ষম! সে প্রসঙ্গে মাস্ক অবশ্য বলেছেন, এআই-কে এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এর সাহায্যেই সভ্যতার তুমুল অগ্রগতি ঘটানো সম্ভব।

LEAVE A REPLY

13 − one =