শিল্প মানুষকে সৃজনশীল হিসাবে গড়ে তোলে- মনিরা পারভীন

0

এ যেন শিল্পের কাছে জীবনের পরাজয়। যাঁর অন্তরাত্মা কেবলই স্পর্শ চায়, কল্যাণ-মঙ্গল-সুন্দরের। যেখানে শুধু আসা-যাওয়া তাল,লয়,ছন্দের। নূপুরের শব্দে জেগে ওঠে অন্য এক সকাল। সে এক অনিন্দ্য ভোর, কাব্যকথা।

ডাক নাম-হ্যাপী। পরিচিতি মনিরা পারভীন নামে। প্রভাষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নৃত্যকলা বিভাগ।

অসম্ভব ব্যস্ততা তাঁর। তবু স্কাই নিউজের সঙ্গে কথা বললেন- প্রাণখুলে। সেই কথোপকথনের সহজ-সরল শব্দাবলী নিয়েই এই লেখা-

সাক্ষাতকার:  অদিত রায়হান,  ছবি: মারুফ হাসান

স্কাই নিউজ: শিল্পের কাছে জীবনের পরাজয়- বিষয়টা কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

মনিরা পারভীন: একজন শিল্পী যদি তাঁর শিল্পকে উপস্থাপন করতে না পারে, মাধ্যম যাই-ই হোক, শিল্পীর বিভিন্ন মাধ্যমের প্রকাশ যদি মানুষের অন্তরাত্মাকে স্পর্শ না করে, তাহলে অবশ্যই তার পরাজয় হবে। আর সেটা তখনই হবে,যদি আমার অডিয়েন্স তা গ্রহণ না করতে পারে। দর্শক বা পাঠক বিষয়টা কীভাবে নেবে, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। সত্যিকারের যে শিল্পী, তিনি বরাবরই ভাবেন- ঠিকমতোন তা দর্শকের কাছে উপস্থাপন করা হলো কী না? যদি তা ঠিকমতোন হয়, তাহলে আমি বলবো, তা হবে- জীবনের কাছে শিল্পের পরাজয়।

স্কাই নিউজ: আপনি দেশের স্বনামধন্য একজন নৃত্যশিল্পী। আপনার কি মনে হয়, এর মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব?

মনিরা পারভীন: অবশ্যই সম্ভব। প্রশ্নটার উত্তর একটু তাত্ত্বিকভাবে দেই। দেখুন, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃত্যের কোন বিভাগ ছিল না। সেটা প্রতিষ্ঠিত হলো, ২০১৪ সালে। এরপর ৫ মার্চ, ২০১৫ থেকে শুরু হলো এর যাত্রা। এখনও কিন্তু কোন ছাত্র-ছাত্রি পড়াশোনা শেষ করেনি। আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের এখান থেকে যে সমস্ত ছেলে-মেয়ে বের হবে, তারা একটা সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়েই বের হবে। মনে রাখতে হবে, এর প্রয়োজনীয়তা আছে বলেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা বিভাগ খোলা হয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ২ বছর পর যখন নৃত্যকলার একটা ব্যাচ বের হবে, তখন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এটা চালু হবে।

স্কাই নিউজ: যদি নির্দিষ্ট করে বলতেন, ঠিক কোন বিষয়ে পরিবর্তন…?

মনিরা পারভীন: প্রথমেই আসবে মানসিক উন্নতি। যা জাতি গঠনের জন্য জরুরি। মানসিক স্থিরতা ছাড়াতো কিছুই হবে না। শিল্পকে ভালবাসলে খারাপ চিন্তার কোন সুযোগ থাকে না। মানুষকে বাড়তি সময় দেয়ার সময়ও থাকবে না। শিল্প মানুষকে সৃজনশীল হিসাবে গড়ে তোলে।

স্কাই নিউজ: আমাদের সমাজে নৃত্যশিল্পীরা কি সঠিকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছেন?

মনিরা পারভীন: না। একেবারেই হচ্ছেন না।

স্কাই নিউজ: কেন?

মনিরা পারভীন: আমাদের সোশ্যাল ভ্যালুজটাই নষ্ট হয়ে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে রুচি।

স্কাই নিউজ: দায় কার?

মনিরা পারভীন: অবশ্যই আমাদের। মনে রাখা উচিত, মূল পরিচয় বিসর্জন দিয়ে কিছু অর্জন করা যায় না। অবশ্য এই অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যখন এই বিভাগের ছেলে-মেয়ে বের হবে, তখন নিশ্চিতভাবেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। তবে পৃষ্ঠপোষকতা খুব দরকার। সেটা সরকারি বা বেসরকারি, যাই হোক না কেন।

স্কাই নিউজ: এ বিষয়ে আপনার কোন পরামর্শ আছে?

মনিরা পারভীন: প্রথমে সরকারকে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দ্বিতীয়ত: যারা কর্পোরেট অবস্থানে আছেন- তাদেরও এ বিষয়ে বিশাল ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের মধ্যে মানবতা বোধ জাগাতে হবে। পাশাপাশি বলবো- নৃত্যশিল্পের উন্নয়নে সমস্ত শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসা উচিত।

স্কাই নিউজ: শেষ কথা?

মনিরা পারভীন: প্রথমেই বলি, আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কথা। তিনি না থাকলে হয়তো এই বিভাগটাই আমরা পেতাম না। এরপর বলবো, আমাদের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্যার এবং বর্তমান উপার্চা্য অধ্যাপক মো: আখতারুজ্জামান স্যারের অপার সহযোগিতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে।

সবশেষে বলবো- আমরা যেন শিল্পকে ভালবেসে মানুষকে ভালবাসতে শিখি। আর তখনই একটি সমাজ-দেশ সমৃদ্ধ হবে। পরিবর্তন হবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীর। মনে রাখতে হবে– নৃত্য হচ্ছে গুরুমুখী বিদ্যা। আমি গভীর ভাবে বিশ্বাস করি, আমার গুরুদেব- শ্রী সন্দ্বীপ মল্লিক, শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নিপার অপাত্য ভালবাসায় পৌঁছে যাবো অভীষ্ট লক্ষ্যে।

 

 

 

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

eleven + fourteen =