শিক্ষকের পিটুনি এবং অত:পর…

0

স্কাই নিউজ প্রতিবেদক: তুচ্ছ ঘটনাকে কন্দ্রে করে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আহত ছাত্র-ছাত্রীদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালের ওই ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন।

ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই দিন বিকাল ৩ টার দিকে ৫ম শ্রেণির ইংরেজি ক্লাস শেষ হয়। পরে কাকের মুখ থেকে মুরগির বাচ্চা ছাড়িয়ে আনতে ওই শ্রেণির ছাত্র রিয়াজুল শেখ, তামিম ফকির ও সাইফুল শেখ স্কুল মাঠের পাশে একটি গাছের নিচে যাওয়ার অপরাধে প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম তাদেরকে ডেকে পিটিয়ে আহত করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি তৃতীয় শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস নিতে যান। ক্লাস চলাকালে হাতের লেখার ত্রুটি হওয়ার কারণে ১৪ জন ছাত্র-ছাত্রীকে স্টিলের স্কেল দিয়ে পেটাতে শুরু করেন। ওই সময় পাশেই তদন্ত কাজে নিয়োজিত থাকা নড়াগাতী থানার ওসি মো. বিলায়েত হোসেন ছাত্র-ছাত্রীদের চিৎকার শুনে স্কুলে ছুটে যান। প্রধান শিক্ষকের রোষানল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করেন। ওই সময় শিক্ষকের পিটুনিতে ১৪ ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। আহতদের মধ্যে জাকিয়া খানম, ছালমা, সনিয়া, মুমতারিন ও কিরন গুরুতর আহত হয়েছে।

নড়াগাতী থানার ওসি ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, তিনি আক্রান্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মারমুখী ওই শিক্ষকের রোষানল থেকে উদ্ধার করে কালিয়ার ইউএনও ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের অপসারণ ও বিচার দাবি করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিশির বিশ্বাস বলেছেন, তিনি ঘটনার খবর পেয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করেছেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

কালিয়ার ইউএনও মো. নাজমুল হুদা বলেছেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের ব্যবস্থা করেছেন। বিষয়টিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ওই ঘটনার সত্যতা স্বীকার বলেছেন, তাদেরকে শাসন করার জন্য সামান্য মারপিট করেছি।

LEAVE A REPLY

8 + 16 =