যৌবনোচ্ছ্বল ত্বকের রহস্য…

0

স্কাই নিউজ প্রতিবেদক: ৩০-এর কোঠায় পা দিতে না দিতেই ত্বকের সমস্যায় জেরবার। অথচ বাড়িতে অথবা পার্লারে কিছুসময় ব্যয় করলেই এ ব্যাপারে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন হবে না।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের নানা সমস্যায় জেরবার হন অনেকেই। ৩০-এর কোঠায় পা দিতে না দিতেই বলিরেখা, ফাইন লাইন্‌স, লুজ় স্কিন ইত্যাদি সমস্যা আয়নায় ফুটে ওঠে। আত্মবিশ্বাসেও টান পড়ে বলে আয়নার সামনে দাঁড়াতেও ইচ্ছে করে না। স্কিন এজিং কিন্তু এক-একজনের ক্ষেত্রে এক-একসময় হয়। শুধুমাত্র বয়সের কারণেই নয়, হঠাৎ করে যদি কেউ খুব রোগা হয়ে যান, তাহলেও কিন্তু ত্বকে এই ধরনের সমস্যা আসতে পারে। শরীরের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকেরও বয়স বাড়বে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা যেমন সত্যি, তেমনই, সঠিক সময়ে সঠিক যত্ন নিলে অনেকদিন অবধি ত্বককে তরুণ রাখা সম্ভব, এটাও সত্যি। বেসিক কেয়ারের পাশাপাশি স্কিন ফার্মিং ক্রিম, ফেস প্যাক, মাস্ক ইত্যাদি তো আছে। এছাড়াও এমন কিছু উপায় রয়েছে, যা একইসঙ্গে সহজ, পকেট ফ্রেন্ডলি এবং অত্যন্ত কার্যকরী। এখানেই কথা আসে ফেশিয়াল ম্যাসাজ এবং এক্সারসাইজ়ের। শুধু ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া আটকাতেই নয়, ম্যাসাজের মাধ্যমে ত্বকে উজ্জ্বলতাও আসে। আজকাল তো বিভিন্ন রকমের ম্যাসাজের রমরমা। বিভিন্ন এসেনশিয়াল অয়েল নিয়ে বিভিন্ন স্ট্রোকে ম্যাসাজ করা হয়। ফলে ত্বকের রক্ত চলাচল বাড়ে, পাশাপাশি ত্বকের কোশ তথা ত্বকের দৃঢ়তাও বাড়ে। পার্লারে গিয়ে কিংবা বাড়িতে প্রফেশনালের সাহায্যে তো ম্যাসাজ করাতেই পারেন। পার্লারে গিয়ে ফেশিয়াল ম্যাসাজ করাতে গেলে বেশ কয়েকটা সেশনের দরকার। এসবক্ষেত্রে পকেটের কথা ভাবলে চলবে না। কিন্তু এই বাজারে সেদিকে নজর না দিয়েও তো উপায় নেই। ঘরে বসে কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখলেই আর কোনও সমস্যা নেই। ত্বকও থাকবে যৌবনোচ্ছ্বল— ফলে বয়সও ৩০-এর কোঠাতেই আটকে থাকবে।

ফেশিয়াল ম্যাসাজের ক্ষেত্রে ম্যাসাজের পদ্ধতির পাশাপাশি কোন তেল ব্যবহার করছেন, তাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। সব তেল কিন্তু একরকম কাজ করবে না। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে আর্গন অয়েল বা আমন্ড অয়েল এবং তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে জোজোবা অয়েল ভাল। রোজ় অয়েলও ত্বকের দৃঢ়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

 

ফেশিয়াল ম্যাসাজ

সবসময় পরিস্কার ত্বক থেকে শুরু করুন। ভালভাবে ত্বক ধুয়ে, তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকনো করে নিন, ঘষবেন না। এবার হাতের তালুতে কয়েকফোঁটা ম্যাসাজ অয়েল নিয়ে, প্রথমে কানের নিচ থেকে ঘাড়ের দিকে, আঙুলের ডগা দিয়ে হাল্কা সার্কুলার মোশনে চাপ দিন। খুব বেশি প্রেসার দেবেন না। গলার কাছে এলে আস্তে আস্তে চোয়াল বরাবর ওপরের দিকে চাপ দিন। এরপর যে কোনও একদিকের চোয়াল থেকে শুরু করুন। একইভাবে চোয়াল হয়ে, ঠোঁটের দু’পাশ বরাবর ওপরে দিকে ম্যাসাজ করে চিকবোন অবধি উঠুন। এরপর মাথার দু’পাশে থেকে কপালের মাঝখান অবধি ম্যাসাজ করুন। আবার কপালের মাঝখান থেকে মাথার দু’পাশ অবধি সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন। এবার ভুরুর আর্চ থেকে শুরু করে চোখের চারপাশের অংশে হাল্কাহাতে ম্যাসাজ করুন। আঙুল দৃঢ় রাখবেন, কিন্তু প্রেসার যতটা সম্ভব হাল্কা। ম্যাসাজিং স্ট্রোক হবে আপওয়ার্ড এবং আউটওয়ার্ডস। গালের ত্বক টানটান রাখতে প্রথমে হাত মুঠো করে গালে ভর দেওয়ার ভঙ্গীতে ওপরের দিকে চাপ দিন। এভাবে দু’বার ৫ সেকেন্ড করে রাখুন। ডবল চিন থেকে মু্ক্তি পেতে প্রথমে মধ্যমা এবং অনামিকার মাঝের অংশ দিয়ে থুতনিতে চিমটি কাটার ভঙ্গীতে চাপ দিন। এবার দু’হাতের আঙুল থুতনিতে রেখে, চোয়াল বরাবর দু’পাশে কানের নিচ অবধি ঠেলুন। হাত মুঠো করে থুতনির নিচে রেখে হাল্কা প্রেসার দিয়ে নিচের দিকে ঠেলুন। এভাবে প্রত্যেকটা পদ্ধতি অন্তত ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট মতো করুন। কপালে বলিরেখা কমাতে দু’হাতের আঙুল পাশাপাশি কপালের ওপর রাখুন। এবার একহাতের আঙুলের ডগা দিয়ে কপালের ত্বক নিচের দিকে টানুন এবং অপরহাত দিয়ে ওপরদিকে টানুন। এভাবে পুরো কপালে ম্যাসাজ করুন। কপালের ফাইন লাইন্‌স থেকে মুক্তি পেতে ভুরুর মাঝখানে তর্জনী ও মধ্যমা রেখে ওপরের দিকে এমনভাবে ম্যাসাজ করুন যাতে দু’আঙুল দু’দিকে ছড়িয়ে যায়। এভাবে ৫ বার করে রিপিট করুন।

ফেশিয়াল এক্সারসাইজ়

যে কোনও জায়গায়, যে কোনও সময় ফেশিয়াল এক্সারসাইজ় করতে পারেন। মুখের বিভিন্ন অংশের জন্য বিভিন্ন ধরনের এক্সারসাই‌জ় রয়েছে। নিয়মিত ফেশিয়াল এক্সরাসাইজ় করলে শরীরের মতই ত্বকের ইলাস্টিসিটি বজায় থাকে। ত্বক মসৃণ হয়, ফাইন লাইন্‌স, বলিরেখা ইত্যাদিও কম দেখা যায় এবং মুখের অতিরিক্ত মেদও ঝরে যায়। স্মাইল লাইনস কমাতে, মুখ ‘O’ আকারে খুলুন এবং তারপর হাসার মতো আড়াআড়িভাবে টানটান করুন। এমনভাবে করবেন, যাতে দাঁত ঠোঁটের ভেতর থাকে, বাইরে থেকে দেখা না যায়। চোখের ফোলাভাব কমাতে দু’হাতের মধ্যমা রাখুন ভুরুর মাঝে এবং তর্জনী রাখুন চোখের বাইরের কোণে, অর্থাৎ ‘V’ আকারে। এবার চোখ ওপরের দিকে করুন, মাথা তুলবেন না। এরকম অবস্থাতেই আইবল চোখের ভিতরের কোণে আনুন। ৫ সেকেন্ড রেখে রিল্যাক্স করুন। এভাবে ৫-৬ বার রিপিট করুন। ডবল চিন কমাতে মাথা সোজা রেখে মুখ হা করুন। এই অবস্থাতেই মাথা ওপরে তুলুন। এবার মুখ বন্ধ করুন। দেখবেন, গলা এবং থুতনিতে টান অনুভব করবেন। এভাবে ১০ বার করুন।

ফেশ প্যাক মাস্ক

ফেশিয়াল ম্যাসাজ এবং এক্সারসাইজ়ের পাশাপাশিই বাড়িতে কিছু সহজ ফেশ প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন।

একটি পাত্রে ২-৩ চামচ শসার রস, একটা ডিমের সাদা অংশ, একটা ভিটামিন ই ক্যাপসুল এবং এক চা-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০-২০ মিনিট রেখে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

দু’চামচ মুলতানি মাটি, এক চামচ মধু এবং একটা ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। ২০ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

বেসন এবং টকদই একসঙ্গে মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। এই ফেশপ্যাকে ত্বকে রক্ত চলাচালও ভাল হবে।

২ চামচ মধু, আধ কাপ চালের আটা এবং ২-৩ চামচ পাকা পেঁপেবাটা একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে, গলায় লাগান। ১০-২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন।

স্যালঁ ফেশিয়াল

জানি, সবার পক্ষে বাড়িতে এতকিছু করা সম্ভব নয়। আর ম্যাসাজ বা প্যাকের জন্য কিছুটা সময় না দিলে ফলও পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে পার্লারই ভরসা অনেকের কাছেই। বিভিন্ন পার্লারে আজকাল বিভিন্ন ধরনের স্কিন ফার্মিং বা অ্যান্টি এজিং ফেশিয়াল করা হয়। তবে সবেতেই যে একই রকম কাজ হবে তা নয়। রেটিনল, হাইড্রোকুইনোন, ভিটামিন সি, ই, বি, কো-এনজ়াইম কিউ ১০, হায়ালুরোনিক অ্যাসিজ, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, ক্যালসিয়াম ইত্যাদিযুক্ত প্রোডাক্ট বেশ ভাল কাজে দেয়। ফেশিয়ালের মধ্যে হাইড্রোলিফ্টিং, অক্সিজিনেটিং, কোলাজেন রিস্টোরেটিভ, বটিনাল লাইন ডিফেন্স, গোজি মাস্ক, মাইক্রোডার্মাব্রেশন ইত্যাদি ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন। এছাড়াও কিছু কমন ফেশিয়ালেরও সন্ধান দিলাম।

অক্সিজেন ফেশিয়াল: যে কোনও ধরনের ত্বকের জন্যই আদর্শ। ত্বকের দৃঢ়তা বজায় রাখতে এই ফেশিয়াল কার্যকরী। এক্ষেত্রে অক্সিজিনেটিং অ্যাম্পুল ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের ভিতরে প্রবেশ করে দৃঢ়তা বজায় রাখে। ত্বকের ওপরে থাকা বিভিন্ন দাগ-ছোপও দূর হয় এবং নির্জীব ত্বকে প্রাণ আসে।

ডায়মন্ড ফেশিয়াল: এই ফেশিয়ালের মূল অংশ ডায়মন্ড ডাস্ট পিল অফ মাস্ক, যা ত্বককে দৃঢ়তা প্রদান করে। সঙ্গে এতে ভিটামিন সি, কিউয়ি এবং গ্রেপফ্রুট এক্সট্র্যাক্টও থাকে যা ডি-পিগমেন্টেশনে সাহায্য করে। অ্যাকনে প্রবণ ত্বক ছাড়া যে কোনও ত্বকে ব্যবহার করা যায়।

২৪ ক্যারেট গোল্ড ফেশিয়াল: অ্যান্টি এজিং ফেশিয়ালের মধ্যে অন্যতম প্রধান এটি। ত্বককে আর্দ্রতা দিয়ে ফাইন লাইনস, রিঙ্কল ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে। ত্বককে ভিতর থেকে পরিষ্কার করে অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাবও কমায়। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, উজ্জ্বল এবং কোমল। এক চামচ অ্যালোভেরার রস, এক চামচ মধু এবং এক চামচ মেয়োনিজ় একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

টিপস

ফেশিয়াল ম্যাসাজের ক্ষেত্রে খুব বেশি তেল ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বক স্লিপারি হবে, ফলে প্রেসার সঠিকভাবে নাও পড়তে পারে।

স্মোকিং শরীরের জন্য যতটা ক্ষতিকারক, ত্বকের জন্যও কিন্তু ততটাই ক্ষতিকারক। সুতরাং টানটান ত্বক পেতে স্মোকিং থেকেও দূরে থাকুন।

ভিটামিন সি এবং ই সমৃদ্ধ ফল, সব্জি বেশি করে খান। অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাবেন।

LEAVE A REPLY

five − two =