মেদ ঝরাতে কোষ মেরে ফেলার নতুন পদ্ধতি

0

স্কাই নিউজ প্রতিবেদক: শরীরে বাড়তি মেদ ঝরাতে অনেক মানুষ কী না করে৷ খেলাধুলা বা ব্যায়ামের মতো স্বাস্থকর পন্থা ছাড়াও অপারেশন করিয়ে মেদ কেটে বাদ দেবার ব্যবস্থাও করেন অনেকে৷ এবার নতুন এক প্রক্রিয়ায় মেদের কোষ মেরে ফেলা হচ্ছে৷
ড. রেগিনা ভাগনার মেদ কমানোর এই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেন৷ দাঁড়ানো অবস্থায় তেমন টের না পেলেও বসলে অস্বস্তি হয়৷ ড. ভাগনার বলেন, ‘‘জানা গেছে, নির্দিষ্ট এক তাপমাত্রায় মেদের কোষ কমতে পারে৷ অবশ্যই সেটা আমাদের শরীরের নিজস্ব তাপমাত্রা৷ কিন্তু ৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশি ঠান্ডা হলে কোষ মরে যায়৷ একে আমরা অ্যাপোপটোসিস বা কোষের মৃত্যু বলি৷”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এই ক্রাইওলিপোলিসিস প্রক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং একাধিক পরীক্ষা চালিয়েছেন৷ ত্বকের সুরক্ষায় এক বিশেষ জেল লাগানো হয়৷ মেদের কোষ জমাতে গিয়ে ত্বকও যাতে শীতল না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হয়৷ তারপর শীতল করার অ্যাপ্লিকেটর যন্ত্র প্রয়োগ করা হয়৷ সেটি নেগেটিভ প্রেশারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জায়গা শুষে টেনে ধরে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে দেয়৷
এক ঘণ্টা ধরে এই প্রক্রিয়া চলে৷ অ্যাপ্লিকেটরের শীতল তাপমাত্রা মেদের কোষ থেকে শক্তি কেড়ে নেয়৷ তখন মেটাবলিজম বন্ধ হয়ে কোষের মৃত্যু হয়৷ ৬০ মিনিট পরে যন্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়৷ তখন একটা স্তর থেকে যায়৷ মালিশ করে সেটি দূর করতে হয়৷
হানোফার শহরে মেডিকাল বিশ্ববিদ্যালয়েও মেদ ঝরানোর পদ্ধতি পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ এমনিতে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই, তবে একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না৷ প্রো. পেটার এম ভোগ্ট বলেন, ‘‘যে সব রোগীর অন্যান্য রোগ রয়েছে, এই প্রক্রিয়া তাদের জন্য উপযুক্ত নয়৷ যেমন যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান৷ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও এটা ভালো নয়৷ ত্বকের রোগ ও বাড়তি মেদের জায়গায় রক্তনালীর পরিবর্তন ঘটে থাকলেও চলবে না৷ এখনো পর্যন্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে অতি সামান্য৷ বড়জোর ত্বকের রং কিছুটা বদলে যায়, অনুভূতি কিছুটা কমে যায়৷”

LEAVE A REPLY

eighteen − 16 =