মহাকাশে বাংলাদেশ (ভিডিওসহ)

0

স্কাইনিউজ প্রতিবেদক: অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত এবং ঐতিহাসিক স্বপ্নযাত্রা শুরু হলো। প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর, দ্বিতীয় দফায় মহাকাশে সফল উড্ডয়ন করল- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পথে মহাকাশে পদচিহ্ন আঁকল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চপ্যাড থেকে মহাকাশপথে যাত্রা শুরু করে।

দেশের প্রথম এ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচারে নতুন যুগের সূচনা হলো।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

এর আগে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক  বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আবেগঘন এবং আনন্দময় পরিবেশের মধ্যে আছি। কারণ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে আমরা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছি। স্যাটেলাইটটি মহাকাশে বাংলাদেশের উপস্থিতি জানান দেবে। পাশাপাশি স্যাটেলাইটটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও উৎসাহিত এবং অনুপ্রাণিত করবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে প্রযুক্তিনির্ভর স্যাটেলাইট যুগে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন। সে সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেতবুনিয়ায় স্যাটেলাইটের প্রথম আর্থ স্টেশন স্থাপন করেন। আজ দীর্ঘদিন পরে হলেও তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সাহসী এবং দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা মহাকাশ জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।’

পলক বলেন, ‘আমরা আশা করছি বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশে বাংলাদেশের উপস্থিতি নিশ্চিত করব। পাশাপাশি এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গতিশীলতা আসবে। আমাদের কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটের যে তিনটি মূল উদ্দেশ্য, টেলিকমিউনিকেশন, ব্রডকাস্টিং এবং ডেটা কমিউনিকেশন- এই তিনটি ক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট অর্থনৈতিকভাবে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট সদস্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম প্রবেশ করলো।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মূল অবকাঠামো তৈরি করেছে- ফ্রান্সের প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস।

বাংলাদেশের প্রথম এ স্যাটেলাইট প্রকল্পে মার্কিন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল (এসপিআই) ২০১২ সাল থেকে বিটিআরসির পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে। এ প্রতিষ্ঠানের পরামর্শে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, অর্থায়ন, দরপত্র, অরবিটাল স্লট কেনাসহ অন্যান্য সব কাজ করেছে বিটিআরসি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হবে। স্যাটেলাইটটি ১৫ বছর মেয়াদের মিশনে পাঠানো হচ্ছে।

স্যাটেলাইটের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলে আশপাশের কয়েকটি দেশে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা দেয়ার জন্য জিয়োসিক্রোনাস স্যাটেলাইট সিস্টেম (৪০ ট্রান্সপন্ডার, ২৬ কেইউ ব্র্যান্ড, ১৪ সি ব্যান্ড)-এর গ্রাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করা যাবে।

ভিডিও সৌজন্য: স্কাই নিউজ

LEAVE A REPLY

ten + four =