ভারত না চীন: কে আসবে ডিএসই’তে?

0

স্কাইনিউজ প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ার কেনার জন্য আবেদন করেছে চীন এবং ভারতের দু’টি কনসোর্টিয়াম৷ এর মধ্যে চীনের প্রস্তাবই আকর্ষণীয় বিবেচনায় পছন্দের শীর্ষে রেখেছে ডিএসই৷ বাকিটা এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায়৷

ডিএসই’র মালিকানার অংশীদার হতে সক্রিয় বিদেশি দু’টি জোটের একটি জোট বা কনসোর্টিয়াম হলো চীনের শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ মিলে৷ অন্যটি ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই), যুক্তরাষ্ট্রের নাসদাক ও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ মিলে গঠিত হয়েছে৷

জানা গেছে, ডিমিউচুয়ালাইজেশনের অংশ হিসেবে গত সেপ্টেম্বরে ডিএসই’র ডাকা শেয়ার বিক্রির দরপত্রে অংশ নিয়ে চীনের জোটটি প্রতিটি শেয়ারের জন্য সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করে৷ তারা প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রস্তাব করে ২২ টাকা৷

ভারতের জোট চীনের থেকে দর প্রস্তাবে পিছিয়ে আছে৷ তারা প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রস্তাব করে ১৫ টাকা৷ ভারত এর সঙ্গে ডিএসসি’র দু’টি পরিচালকের পদও চায়৷ আর তারা ৫ বছর পর আবার এই শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার কথা বলেছে তাদের প্রস্তাবে৷

অন্যদিকে, চীন দীর্ঘদিন ডিএসইতে থাকতে চায়৷ আর তারা পরিচালকের পদ চায় ১টি৷ তারা একইসঙ্গে ৩ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলারের কারিগরি সহায়তা দেয়ার কথাও বলেছে প্রস্তাবে৷ কিন্তু ভারতের প্রস্তাবে উন্নয়নের কথা থাকলেও কত অর্থ ব্যয় করবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা নেই৷

সব মিলিয়ে চীনের প্রস্তাব আকর্ষণীয় হওয়ায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসই’র পর্ষদ সভায় চীনা দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামকে অংশীদার করতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷

ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান ওই দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘‘দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ এবং জাতীয় স্বার্থ- উভয় দিক বিবেচনা করেই পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ আইন অনুযায়ী পর্ষদের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনুমোদন লাগবে৷”

ডিএসই গত বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে৷ চীনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলেও বিবেচনার জন্য ডিএসই চীন ও ভারতের দু’টি প্রস্তাবই পাঠিয়েছে বিএসইসি’র কাছে৷

তাদের প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বৃহস্পতিবারই জরুরি সভা করে বিএসইসি চার নির্বাহী পরিচালকের সমন্বয়ে একটি কমিটি করেছে ৷ এই কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে৷ বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানয়েছেন,‘‘কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিএসইসি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে৷”

এ নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি৷ তবে একজন পরিচালক জানান, সব দিক বিচেনায় তাঁদের কাছে চীনের কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবই সেরা মনে হয়েছে৷ আরেকটি দেশের পক্ষে অনেক চাপ ছিল৷ তবে তাঁরা দেশের কল্যাণেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ তিনি আরো বলেন যে, আইন অনুযায়ী, আগামী ৮ মার্চের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে এবং তা করা হবে৷ আর আইনে ডিএসইর পর্ষদে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর জন্য ১টি পরিচালক পদ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে৷

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘‘বিদেশি বিনিয়োগকারী নেয়া আইনি বাধ্যবাধকতারই অংশ৷ এখন স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের স্বার্থে যাদের ভাল মনে করে তাদেরই নেবে৷”

 

LEAVE A REPLY

3 × five =