বাংলা নতুন বছর এবং কিছু কথা…

0

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাত পোহালেই বৈশাখ।বাংলা বছরের প্রথম দিন, ১৪২৫ ।যত হৈ-হুল্লোড়, নাচ-গান, খাওয়া-দাওয়া, এই একটি দিনকে ঘিরেই। এরপর?

আমরা বলি, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন করার কথা। আজও! কেন? ১৯৫২ থেকে ২০১৮। আদৌ কি তা পেরেছি?

আমাদের ইতিহাসের স্বর্ণালী অধ্যায় জানি, ইংরেজিতেই। ধরা যাক, ১৯৫২ সাল থেকেই। রাষ্ট্রভাষা বাংলার আন্দোলনে আমরা রক্ত দিয়েছি। অথচ ক’জন জানি সেই দিনটি বাংলায় কী মাস, কী বার ছিল? ১৯৬২,১৯৬৬, ১৯৬৯-এর বিশেষ দিনগুলি বাংলায় কতো তারিখ ছিল?

এর চেয়েও বড়ো কথা, কয়জনই বা জানি- ২৫,২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর বাংলায় কোন মাসের কতো তারিখ ছিল?

না, জানি- ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল ৮ ফাল্গুন। এই কারণেই যে, আমরা এই বাংলা দিনটিকে বারবার স্মরণ করেছি, করবো। যে কারণে মনে গেঁথে গেছে দিনটি।কিন্তু অন্য সব দিনের কথা জানা নেই।

এই দায়ভার কোনভাবেই তরুণ প্রজন্মকে দেয়া ঠিক হবে না। কারণ, রাষ্ট্র এবং সরকারই নির্ধারণ করে দেশের জনগণ কোন পথে চলবে, কী শিখবে?

আসলে আমাদের সংগ্রাম-ঐতিহ্যের যা কিছু আছে, তাতে বাংলা সালের মিশেল দিতে হলে, সর্বাগ্রে প্রয়োজন খাঁটি বাঙ্গালি হওয়ার। নইলে কিছুতেই কিছু হবে না।

সবকিছুতে হিন্দুয়ানি গন্ধ, মুসলমানি গন্ধ, বৌদ্ধগন্ধ এবং খ্রীষ্টিয় গন্ধ খুঁজে বেড়ালে প্রজন্মকে কোনভাবেই আধুনিক, কল্যাণকামী করা যাবে না।

আধুনিকতা আসে চেতনায়।মাত্র ১ দিনের চেতনায় কিছু অর্জিত হবে না।শিক্ষা-সংস্কৃতি-সামাজিকতায় বাংলার নির্ভেজাল ব্যবহার না হলে, কিছুতেই কিছু হবে না।

প্রত্যাশা থাকলো,  বাংলা বছরের প্রথম দিন থেকেই আমরা শুরু করবো, মনুষত্বের গান। যেখানে কেবলই থাকবে- আলোকিত চিন্তা আর ভালবাসার শব্দগাথা।

 

LEAVE A REPLY

two × 4 =