বর্ষবরণ: প্রস্তুতি শেষের দিকে

0

স্কাইনিউজ প্রতিবেদক: দরজায় কড়া নাড়ছে ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। বাঙালি উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা, আবেগ, উল্লাস নিয়ে উৎসবে মেতে উঠবে বৈশাখ বরণে।

নতুন বছরকে বরণ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ব্যস্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক। কাল নতুন বছর, তাই আজই শেষ হবে এর সব প্রস্তুতি।

চারুকলা অনুষদ ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার শিক্ষার্থীরা পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে নানা প্রতিকৃতি তৈরিসহ বিভিন্ন উপকরণ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। একপাশে চলছে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন শিল্প কাঠামো নির্মাণে শেষ মুহূর্তের কাজ, অন্যপাশে চলছে এ আয়োজনের ব্যয় নির্বাহের জন্য শেষ মুহূর্তে জল রঙের ছবি, পুতুল, সরাচিত্র ও মুখোশ বিক্রির কাজ। চারুকলার বর্তমান এমনকি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও দিন-রাত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন বর্ষবরণ দিনটিকে রাঙিয়ে তুলতে।

চারুকলার ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাবিন আদনান বলেন, গত ৮ তারিখ আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষে আমাদের অর্থনৈতিক কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটি হয়েছে সেটা হলো ২দিন কাজ বন্ধ ছিল। যার কারণে আমাদের কাজ একটু পিছিয়ে গেছে। যেটি আমাদের অনেক বড় ক্ষতি বলে আমাদের মনে হচ্ছে। আমরা আজ সারা দিন-রাত কাজ করলে আশা করি, প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যাবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সব ঠিক আছে। শেষ পর্যন্ত যেন এভাবে থাকে। সবাই যেন আসতে পারে সে নিশ্চয়তা দরকার। গত কয়েকদিনের ঘটনায় মানুষ চারুকলায় আসতে ভয় পাচ্ছে। মানুষের মনের ভীতি দূর করতে হবে। যাতে সবার স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের আয়োজন সম্পন্ন করতে পারি।

চারুকলার শিক্ষার্থীর জানায়, এবারো নানা লোকজ উপাদান থাকবে। লক্ষ্মী সরা, টেপা পুতুল, পাখি- এ রকম নানা কিছু যা বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের উপকরণ। এ দেশের ঐতিহ্যকে প্রতিনিধিত্ব করে- সেসব শিল্পকর্ম আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রায় থাকবে। সেই সঙ্গে সরা পেইন্টিং হচ্ছে, ওয়াটার কালার হচ্ছে। সব শিক্ষার্থীই কাজ করছেন।

মঙ্গলের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য চারুশিক্ষার্থীরা বেছে নিয়েছেন বাঘ ও পেঁচা। সঙ্গে থাকবে বিশাল সাইজের রাজা-রানী। এ ছাড়াও এবারের শোভাযাত্রায় রাজা-রানীর সঙ্গে থাকবে তার সেনাপতি, টেপা পুতুল, সূর্যদেবতা। ঐতিহ্যগতভাবে পহেলা বৈশাখের পরদিন ২ বৈশাখ যাত্রাপালা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজক চারুকলার শিক্ষার্থীরা এবার যাত্রাপালার আয়োজন করেছেন। চারুকলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এবারের যাত্রাপালার নাম ‘বাগদত্তা’। এ ছাড়া শোভাযাত্রার সবচেয়ে বড় শিল্প কাঠামো হবে- হরিণ। সোনালি রঙের এ হরিণ নিয়ে শোভাযাত্রা করে সবাইকে সোনার মানুষ হওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

LEAVE A REPLY

fourteen + seventeen =