নির্বাচন: খালেদা জিয়া-তারেক নেই, বিএনপিও নেই

0

স্কাই নিউজ প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানিয়েছে বিএনপির প্রতিনিধিদল । ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ বৈঠকেও একই সিদ্ধান্ত । আরপিও অনুযায়ী, আগামি নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে না বিএনপি। দলের নেতারা দাবি করছেন, বেগম জিয়াকে ’মাইনাস’ করে আগামী নির্বাচন করতে চাইছে সরকার। তাড়াহুড়ো করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারীতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে বেগম জিয়াকে দন্ডিত করার মাধ্যমে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে। আর  দুর্নীতির মামলায় অন্যূন দুই বছর দন্ডপ্রাপ্ত হলে সংবিধান ও গণপ্রনিতিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নির্বাচন করাটা দু:সাধ্য হয়ে পড়বে। এই সার্বিক পটভূমি বিবেচনায় নিয়ে শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে,বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। সেই সাথে নির্বাচন প্রতিহত করা হবে।এর আগে গত ৯ জানুয়ারী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে না জোটের কোন শরিকদল। এদিকে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্টানিকভাবে জানিয়েছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।

নির্বাচন কমিশনের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছে দলটির নেতারা। বিকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী নির্বাচন থেকে বেগম জিয়াকে অন্যায়ভাবে বাইরে রাখার জন্য সরকার ষড়যন্ত্র করছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে না বিএনপি। সিইসির সাথে সাক্ষাত শেষে নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার জন্য যদি অন্যায়ভাবে চেষ্টা করা হয় তাহলে বিএনপির কেউ নির্বাচনে অংশ নিবে এটা মূর্খ ছাড়া কেউ ভাববে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আসলে হয়না।

সিইসি কোনো আশা দিয়েছেন কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান তারা। এখনও তারা সে বিষয়ে আগ্রহী। আমরাও বলেছি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে আমরা নির্বাচন করতে চাইনা।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন বন্ধ হয়ে গেল। আমরা তা চাইনি। আমরা আশাবাদী ছিলাম জয়লাভ করব। এটা আদালতের নির্দেশে বন্ধ করেছে। নির্বাচন কমিশন করে নাই। এরপরও আরও নির্বাচন আছে। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমরা এইটুকু মনে করি যে, সব নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে এবং অংশগ্রহণমূলক হবে। আর যদি কোনো নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয় তাহলে সেটা নির্বাচন নয়। ওটা নির্বাচনের নামে প্রহসন বা খেলা। আমরা খেলা বা প্রহসনে যুক্ত হতে চাইনা। আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।

প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

 

 

LEAVE A REPLY

eight + eighteen =