নিম্ন আদালতের নথি আসার পর জামিন আদেশ

0

স্কাইনিউজ প্রতিবেদক: নিম্ন আদালতের নথি আসার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন আদালত।

রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। এরপর ২ বিচারক ৫ মিনিট নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। পরে আদালত বলেন, ‘নিম্ন আদালতের নথি আসার পর আদেশ দেয়া হবে।’

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে দুপুর আড়াইটা থেকে শুনানি শুরু হয়। খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন চাওয়া হয়েছে আবেদনে।

শুনানিতে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। জামিন আবেদনের শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি আদালতকে বলেন, ‘ইতিহাসে এ প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী যিনি এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, ‘একজন প্রধানমন্ত্রীর ছেলের স্বাক্ষরে কীভাবে টাকা চলে যায়? ওই সময় তার ছেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসায়ই থাকতেন। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এত বড় দায় এড়াতে পারেন না।’

খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বয়স, অসুস্থতা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে জামিন আবেদনের আর্জি করেন।

অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন।

বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। এখন রায়ের অপেক্ষা।

এর আগে, খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু করতে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে এজলাস কক্ষে প্রবেশ করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম। কিন্তু আইনজীবীদের অতিরিক্ত উপস্থিতিতে বিচারকদ্বয় এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এমনটি হলে আমরা কীভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করবো।’

জয়নুল আবেদীন জবাবে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, এটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এ মামলার প্রতি দেশবাসীর আগ্রহ আছে, আইনজীবীদেরও আগ্রহ আছে।’

এ সময় অপর বিচারপতি সহিদুল করিম বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ সময় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমরা উনাদের (জয়নুল আবেদীন) বলেছিলাম, তাদের পক্ষে ৩০ জন এবং আমাদের পক্ষে ৩০ আইনজীবী উপস্থিত থাকুক। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি…।’

আদালত এ সময় বলেন, ‘আপনারা ঠিক করেন, আমরা ১০ মিনিট পর আবার বসবো।’

দুপুর আড়াইটায় বিচারকদ্বয় ফের এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে শুনানি শুরু করেন।

দুপুর দেড়টার দিকে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে অংশ নিতে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তিনি খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন বলে জানান। এছাড়া খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য উপস্থিত হন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ জে মোহাম্মদ আলীসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী।

 

LEAVE A REPLY

two × 4 =