নাখালপাড়ার জঙ্গি আস্তানায় ৩ তরুণের লাশ

0

স্কাই নিউজ প্রতিবেদক: পুরনো এমপি হোস্টেলের পেছনে রুবি ভিলা নামের ৬ তলা বাড়ির পঞ্চম তলা থেকে তিনটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), বিস্ফোরক জেল ও একটি পিস্তল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন র্যা ব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।

র্যা বের উপ-পরিচালক মেজর মেহেদী হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ওই ভবন র্যা ব সদস্যরা ঘিরে ফেলেন। পরে শুক্রবার ভোরের দিকে সেখানে গোলাগুলি হয়।
সে সময় ওই ভবনের পঞ্চম তলার ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে র্যাোব সদস্যদের লক্ষ্য করে গ্রেনেডও ছোড়া হয় বলে জানান তিনি।

র্যা বের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সকালে ঘটনাস্থলের কাছে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, যে এরকম জায়গায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে, কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এর ভিত্তিতে ৬ তলা ভবনটির পঞ্চম তলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে জঙ্গিদের সঙ্গে কিছু গোলাগুলি হয়, কিছু গ্রেনেডও নিক্ষেপ হয়।”

তার ব্রিফ্রিংয়ের কিছুক্ষণ পর র্যা বের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে পৌঁছে কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে র্যালব মহাপরিচালক বেনজীর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, গত ৪ জানুয়ারি কয়েকজন তরুণ পঞ্চম তলার ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। ওই বাসার একটি ঘরে তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

সেখানে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে, যেগুলোর ছবি একই রকম, কিন্তু একটিতে নাম লেখা হয়েছে জাহিদ, অন্যটিতে সজীব। এনআইডিগুলো জাল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান র্যা ব মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, “তাদের একজনের গায়ে সুইসাইড ভেস্ট ছিল। একজনের ডেডবডির নিচে একটি আইইডি রয়েছে। রান্নাঘরে গ্যাসের চুলার ওপর আইইডি রেখে আগুন জ্বালিয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করেছিল বলে মনে হয়েছে। কিন্তু সে চেষ্টা সফল হয়নি।”

পরে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, পাঁচ তলার ওই ফ্ল্যাটে কক্ষ মোট তিনটি, সেখানে থাকতেন মোট সাতজন। ফ্ল্যাটে ঢোকার পর সোজা গেলে যে কক্ষটি, সেখানেই তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে। আর বাকি দুই কক্ষ থেকে চারজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

র্যা ব কর্মকর্তারা জানান, তাদের ক্রাইম সিন ও ফরেনসিক টিমের কাজ শেষে সুরতহাল করে লাশগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে। সব কাজ শেষ না হলে বাইরের কাওকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

LEAVE A REPLY

4 × 3 =