নতুন ‘বন্ধুত্বের পথে’ চিন ও আমেরিকা

0

প্রেসিডেন্ট কলিং প্রেসিডেন্ট। সংক্ষেপে গোটা ঘটনাটাকে এভাবেই বর্ণনা করা যেতে পারে। ফোনের ওদিকে চিনা রাষ্ট্রপতি সি জিন পিং আর এদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডোনাল্ট জন ট্রাম্প। ফোনটা করেছিলেন চিনা রাষ্ট্রপতিই, উদ্দেশ্য নবনির্বাচিত মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানকে অভিনন্দন জ্ঞাপন। কিন্তু এই ফোনালাপ আর নিছক সৌজন্য মূলক থাকছে না আন্তর্জাতীক মহলের কাছে। কারণ একটাই, রাষ্ট্র দুটির নাম যে চিন ও আমেরিকা।

চিনা চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, অভিনন্দন জানানোর পর জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছেন, বিশ্বের দুটি বৃহত্ অর্থনীতির পরস্পরকে সহযোগীতা করা দরকার। উভয়েই নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছেন এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার বিষয়েও কথা হয়েছে। অপর দিকে, ট্রাম্পের অফিস থেকেও জিন পিং-এর ফোন করার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সরাসরি সংঘাত না হলেও বিশ্ব মানচিত্রে ক্ষমতার আস্ফালনে আমেরিকার ‘একাধিপত্যকে’ বারংবার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে মাও সে তুং-এর দেশ। দুই দেশের সম্পর্কও যে ‘অতি মধুর’ সেটাও সুস্পষ্ট আন্তর্জাতীক মহলের কাছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁর নির্বাচনী প্রচারে চোখা চোখা শব্দবাণে বিদ্ধ করেছে কমিউনিস্ট সাম্রাজ্যকে। ট্রাম্পের প্রচারে শোনা গিয়েছিল, চিনা পণ্যের উপর ৪৫ শতাংশ কর বসানোর মতো হুমকি। তাই, চিনা সংবাদ মাধ্যমের কথা অনুসারে দুজনের এই ‘পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ’ হতে চাওয়ার বাসনা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। তাহলে কি প্রশাসক ট্রাম্পও নিজেকে বদলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন?

অন্যদিকে, কমিউনিস্ট চিনও কি তাদের সাবেক মার্কিন বিরোধী রক্ষণশীলতা ছেড়ে বন্ধুত্বের উষ্ণ হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে ‘পুঁজিবাদ’-এর স্বর্গরাজ্যের প্রতি? উঠছে সেই প্রশ্নটিও। তাহলে কি আগামী পৃথিবী এক নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের সাক্ষী হতে চলেছে যেখানে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু হবে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন!

LEAVE A REPLY

two × 3 =