জামিন মঞ্জুর সালমানের, আদালতের বাইরে উৎসব

0

স্কাইনিউজ প্রতিবেদক: গুঞ্জন ছিলই! আর এবার সেই সব জল্পনাকে সত্যি প্রমাণ করে ২০ বছরের পুরনো মামলায় শনিবার জামিন পেলেন সালমান খান। বিরল কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় এদিন যোধপুর দায়রা আদালত ব্যক্তিগত ৫০ হাজার টাকার বন্ডে ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর জামিন মঞ্জুর করে। সম্ভবত আজ সন্ধ্যা সাতটার পর জেল থেকে বেরোবেন সালমান।

এদিন বেলা তিনটে নাগাদ আদালত জামিন দেয় ‘সল্লু’কে। তবে এখনই দেশ ছাড়তে পারবেন না তিনি। বিচারক রবীন্দ্র জোশী এই জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের নির্দেশ দেওয়ার আগে সিজেএম দেব খাতরির সঙ্গে দেখা করে একপ্রস্থ আলোচনা সারেন তিনি। বিচারক খাতরিই সলমনকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিলেন। আজ সালমানের আইনজীবী তাঁর জামিনের আবেদন জানানোর সময় আদালতে সালমানের বোন অর্পিতা ও আলভিরা উপস্থিত ছিলেন। সবমিলিয়ে ৪৮ ঘণ্টা পর জেল থেকে বেরোতে পারবেন সালমান। এই খবরে খুশির হাওয়া তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে। ভাইজান জেল থেকে বেরোচ্ছেন জানতে পেরেই আদালতের বাইরে উল্লাসে মেতেছেন তাঁর ভক্তরা। চলছে সালমান ছবিতে মালা পরানো। তাঁর সিনেমার পোস্টার নিয়ে মিছিলও বেরিয়েছে।

এদিন আদালতে শুনানি চলাকালীন এই মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে । প্রশ্ন ওঠে সাক্ষীদের বয়ানের সত্যতা নিয়েও। বিচারক রবীন্দ্র কুমার জোশীর কক্ষে চলছিল শুনানি। তিনিই সালমানকে ব্যক্তিগত ৫০ হাজার টাকার বন্ডের বিনিময়ে জামিন দেন। আজ বিকেল ৫টা নাগাদ জামিনের কাগজপত্র যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে পৌঁছবে। তার ২ ঘণ্টা পরেই সালমান জেল থেকে বেরোতে পারেন। ৫২ বছরের অভিনেতার বিরুদ্ধে ২০ বছর আগে ‘হ্যাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন দুটি বিরল প্রজাতির কৃষ্ণসার হরিণকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এই মামলায় সলমনের সহ-অভিনেতা সইফ আলি খান, অভিনেত্রী টাব্বু, নীলম ও সোনালি বেন্দ্রেকে আগেই বেকসুর খালাস করেছে আদালত।

প্রথম থেকেই এই মামলাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছিল আদালত চত্বরে। আজ সালমান জামিন পেতেই উল্লাসে মাতেন তাঁর সমর্থকরা। কিন্তু আদালতের নির্দেশে খুশি নন বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সদস্যরা। ২ রাত জেলে কাটানোর পর শনিবার সকালে সালমানের জামিনের মামলা ওঠে। দফায় দফায় চলে প্রশ্নোত্তর পর্ব।

মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই বড়সড় রদবদল ঘটে যায় যোধপুর সেশন কোর্টে। সালমনকে ৫ বছরের সাজা শুনিয়েছেন যে বিচারক, সেই দেব কুমার খাতরি-সহ মোট ৮৭ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে বদলির নির্দেশ দেয় রাজস্থান হাই কোর্ট। বিচারক জোশীকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজস্থানের সিরোহতে। তাঁর জায়গায় আসবেন, ভিলওয়ারার সেশন বিচারক চন্দ্র কুমার সোঙ্গারা। বিচারপতি খাতরির জায়গায় আসছেন, সমরেন্দ্র সিং শিকারওয়ার। তিনি এর আগে উদয়পুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। বিচারক খাতরিই সালমনকে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় বৃহস্পতিবার দোষী সাব্যস্ত করে তাঁকে ৫ বছরের কারাবাসের সাজা শোনান। সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা। কিন্তু এবার স্বস্তিতে সালমনের পরিবারের। মনে করা হচ্ছে, সপ্তাহান্তের ছুটিটা বাড়িতেই কাটাতে পারবেন সল্লু।

অন্যদিকে, ২০১৪ সালের ১৪ই জানুয়ারি ফিরে দেখা যাক। তখনও নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। গুজরাতে গিয়েই ঘুড়ি উড়িয়েছিলেন সালমন। গুজরাত দাঙ্গায় তখন অভিযুক্ত মোদী। তাঁরই সঙ্গে একই সুতোয় হাত রেখে ঘুড়ি উড়ানোর পরেই সমালোচিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, সালমনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কও বেশ ভাল।

LEAVE A REPLY

12 − 3 =