খামারীদের দ্বার গোড়ায় রাংগামাটি সদর প্রাণিসম্পদ দপ্তর

0

u2
প্রাণিসম্পদ সম্পর্কিত বিভিন্ন সেবা খামারীদের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিতে রাঙ্গমাটি সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর খামারীদের কাছে গিয়ে “উঠান বৈঠক” এর আয়োজন করেন।রাঙ্গমাটি পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডস্থ আমেনা পাহাড়ে স্থানীয় ডেইরী এবং পোল্ট্রি খামারীদের নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল,২০১৭ আফসারের খামারে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাংগামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃশাখাওয়াত হোসেন;রাংগামাটি সদরের উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা(অঃদাঃ) ডাঃ সুচয়ন চৌধুরী;কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বাবু;ভি,এফ,এ প্রীতিরেশ দেওয়ান;ভি,এফ,এ (এ,আই) দীপল চাকমা প্রমূখ ব্যক্তিবর্গ।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সেবাসমূহ খামারীদের মাঝে তুলে ধরেন।উপস্থিত কাউন্সিলর প্রাণিসম্পদ সম্পর্কিত যেকোন উদ্যোগে উনার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।রাংগামাটি সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃসুচয়ন চৌধুরী উঠান বৈঠকের লক্ষ্য ও উদেশ্যসমূহ খামারীদের মাঝে তুলে ধরেন।তিনি বলেন খামারীদের চাহিদার ভিত্তিতে এরকম উঠান বৈঠিক আরো আয়োজন করা হবে।দূর্যোকালীন খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।তিনি আরো জানান প্রাণিসম্পদ সেবা সহজিকীকরনের জন্য রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে ফেইসবুক পেইজ
www.facebook.com/farmerhope.page/ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ঋতুতে গবাদি পশু,হাঁস-মুরগী পালনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য রাঙ্গামাটি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খামারীদের জন্য প্রচার করা হয়।

ইতোমধ্যে রাঙ্গামাটি পৌরসভার রাঙ্গাপাণি এলাকা, মগবান ইউনিয়নের দোকাইয়া পাড়া, জীবতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়া, সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি এলাকা,কুতুকছড়ি ইউনিয়নের কুতুকছড়ি বাজার এলাকা,বালুখালী ইউনিয়নের আদার পাহাড় এলাকা,বন্ধুকভাঙ্গা ইউনিয়নের মুবাছড়ি সহ রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খামারিদের চাহিদার উপর ভিত্তি করে প্রায় বিশটির অধিক উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয় চলতি বছরে।
গাভী পালন,শুকর পালন,ছাগল পালন,হাঁস-মুরগী পালনসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হয় উঠান বৈঠকে।খামারীরাই ঠিক করে কোন বিষয়ে তাদের জানা প্রয়োজন।আলোচনায় উঠে আসে গবাদি পশু-পাখির লাভজনক খামার করার বিভিন্ন কৌশল।প্রাণির রোগ প্রতিরোধ করতে হলে কোন সময় কোন প্রতিষেধক বা টিকা দিতে হবে।গবাদি পশুর বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা।কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম।পাশাপাশি পশু-পাখি থেকে যেসব রোগ মানুষে বা মানুষ থেকে পশু-পাখিতে ছড়াতে পারে সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা হয় সাধারন মানুষের মধ্যে। তাছাড়া ঐদিন স্থানীয় খামারীদের পশু-পাখিকে চিকিৎসা,টীকা প্রদান,কৃমির ঔষধ বিতরন করা করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচলনা করা হয়ে থাকে ঐ এলাকায়।

“উঠান বৈঠক”এর মূল আকর্ষন খামারীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা বিশেষজ্ঞ প্রাণিচিকিৎসকদের সামনে তুলে ধরা এবং সমাধান গ্রহন ।উঠান বৈঠকের সুফল হিসেবে দেখা যায়, মানুষ ধীরে ধীরে তাদের পশু-পাখির স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অধিক সচেতন হচ্ছে।এখন তারা জানে কখন কোন টীকা তাদের পশু পাখিকে দিতে হবে।বর্ষার সময় খামার কিভাবে দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করবেন।গাভীর পেট ফুলে গেলে কতটূকু আদা খাওয়াতে হবে।তবে সব মানুষের কাছে এখনো এ সেবা পৌছাঁনো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিমত প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এধরনের উদ্যোগ রাঙ্গামাটির মত দূর্গম এলাকায় প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

LEAVE A REPLY

ten + twelve =