… এবার প্রধান বিচারপতি গ্রেপ্তার

0

স্কাই নিউজ প্রতিবেদক: মালদ্বীপের ইংরেজি ভাষার নিউজ পোর্টাল মিহারু ডটকমের খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন সোমবার রাতে দেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেওয়ার পর ভোরের দিকে পুলিশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ঢোকে। এরপর প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লাহ সাঈদের সঙ্গে আলী হামীদ নামে আরেকজন বিচারক এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হাসান সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার আগে মধ্য রাতে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুম এবং তার মেয়ের জামাই মোহাম্মদ নাদিমকে তাদের মালের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিবিসি লিখেছে, তদন্ত কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। জরুরি অবস্থার মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ায় বিশেষ কোনো আইনি সুবিধাও তারা পাবেন না।

গত বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ এবং বিরোধী দলের ১২ এমপিকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচার করে কারাদণ্ড দেওয়াকে ‘অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে রায় দিয়ে তাদের মুক্তির নির্দেশ দেয়।

আদালতের ওই রায়ের পর নাশিদের দল মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট মালদ্বীপের ৮৫ সদস্যের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মানতে অস্বীকার করে পার্লামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দিলে মালদ্বীপে শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনকে ক্ষমতা থেকে সরানো বা ইমপিচ করার যে কোনো উদ্যোগ ঠেকানোর আদেশ দেওয়া হয় সেনাবাহিনীকে।

সোমবার রাতে সরকার ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করলে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়। জরুরি অবস্থা জারির ফলে দেশটির সংবিধানে বর্ণিত নাগরিক অধিকারের বেশ কিছু বিধান এখন কার্যকর থাকবে না। নিরাপত্তা বাহিনীও বাড়তি ক্ষমতা ভোগ করবে।

অবশ্য প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও জনগণের চলাফেরা, চাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর জরুরি অবস্থার কোনো প্রভাব পড়বে না।

সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কারাদণ্ড পাওয়া বিরোধী দলের ১২ এমপির মধ্যে নয় জন কারাভোগ করছেন। স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা আব্দুল্লাহ সিনান ও ইলহাম আহমেদ রোববার দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

19 − one =