একুশে পদক পেলেন ২১ জন

0

স্কাইনিউজ প্রতিবেদক: বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘গৌরবদীপ্ত অবদানের’ স্বীকৃতি হিসেবে ২১ বিশিষ্ট নাগরিক এবার একুশে পদক পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মনোনীত ও তাদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক তুলে দেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে। পদক বিজয়ী প্রত্যেকে পেয়েছেন ১৮ ক্যারেট মানের ৩৫ গ্রাম সোনার একটি পদক, দুই লাখ টাকার চেক ও সম্মাননাপত্র।

ভাষা আন্দোলনের জন্য এবার মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন- ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আ জ ম তকীয়ূল্লাহ। ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে তকীয়ূল্লাহ বাংলাদেশের বর্তমান বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রণেতা।

১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের যেসব আলোকচিত্র এখনও পাওয়া যায়, সেগুলো তকীয়ূল্লাহরই তোলা। তার মেয়ে শান্তা মারিয়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে বাবার পদক গ্রহণ করেন।

তকীয়ূল্লাহর সঙ্গে ভাষা আন্দোলনে এ বছর একুশে পদক পেয়েছেন অধ্যাপক মির্জা মাজহারুল ইসলাম। ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা থেকেই এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন মাজহারুল ইসলাম । ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র প্রতিনিধি হিসাবে তিনি প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদে যুক্ত ছিলেন।

সেই আন্দোলনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নিজে যেমন পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, ১৯৫২ সালের একুশ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলির পর আহত অনেক ভাষাসৈনিককে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাও দিয়েছিলেন।

সংগীতে অবদানের জন্য এবার একুশে পদক পেয়েছেন শেখ সাদী খান, যিনি সংগীত পরিচালক হিসাবে তিনবার ‘বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ পেয়েছেন এর আগে।

একই বিভাগে একুশে পদক পেয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীত পরিচালক ও সুরকার সুজেয় শ্যাম, ইন্দ্র মোহন রাজবংশী, মো. খুরশীদ আলম ও মতিউল হক খান।

‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’, ‘মুজিব একই পথ সংগ্রাম’ ও ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’সহ একাত্তরের অনুপ্রেরণাদায়ী নয়টি গানের সুর ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম। ২০১৪ সালের ২৬ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে তার সংগীত পরিচালনায় লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।

নৃত্যে এবার একুশে পদক পেয়েছেন  মীনু হক, যিনি মীনু বিল্লাহ নামেই বেশি পরিচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৭ বছর বয়সী মীনু হক ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালে’ সেবিকার ভূমিকা পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃত্যকলা বিভাগের কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

অভিনয়ে এবার মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি, যার অনুষ্ঠানিক নাম হুমায়ূন কামরুল ইসলাম। চার দশকের বেশি সময় মঞ্চ, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই শিল্পীর পক্ষে তার মেয়ে শারারাত ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন।

এ বছর নাট্যকলায় অবদানের জন্য নিখিল সেন (নিখিল কুমার সেনগুপ্ত), চারুকলায় কালিদাস কর্মকার এবং আলোকচিত্রে গোলাম মোস্তফা একুশে পদক পেয়েছেন।

কালিদাস কর্মকার বাংলাদেশের সমকালীন চিত্রশিল্পে বিভিন্ন মাধ্যম ও আঙ্গিকের প্রবর্তন করেছেন। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম মিশ্র মাধ্যম শিল্প, পরিবেশ শিল্প, স্থাপন শিল্প ও পারফরমেন্স শিল্পের সূচনা করেন।

গবেষণার জন্য এবার মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন ভাষাসৈনিক অধ্যাপক জুলেখা হক। তার মেয়ে তুষা হক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন।

সাংবাদিকতায় এবারের একুশে পদক পাওয়া রণেশ মৈত্র একাধারে সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, লেখক ও সংগঠক। ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন মেয়াদে মোট দশবার কারারুদ্ধ হয়ে বিনা বিচারে ১৫ বছর কারাভোগ করেন। কারাগারেই তিনি বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসেন। রণেশ মৈত্র দেশের বাইরে থাকার তার পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তার ছেলে প্রলয় মৈত্র।

সমাজসেবায় এ বছর একুশে পদক পেয়েছেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর তিনি শুরু করেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন। ২৪ বছরে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে তিনি সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করেছেন। পাঁচশর বেশি এসএসসি পাস বেকার যুবককে বিনামূল্যে গাড়ি চালনার প্রশিক্ষণ দিয়েছে তার সংগঠন।

এছাড়া অর্থনীতিতে ড. মইনুল ইসলাম, ভাষা ও সাহিত্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম খান (কবি হায়াৎ সাইফ ), সুব্রত বড়ুয়া, রবিউল হুসাইন এবং প্রয়াত খালেকদাদ চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে হায়দারদাদ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

thirteen − eight =