অ্যামাজন অঞ্চলে শুশুকদের কল্যাণে অভিনব প্রকল্প

0

স্কাইনিউজ প্রতিবেদক: বাংলার নদ-নদীতে এককালে অনেক শুশুক দেখা যেতো৷ এখন তারা বিশ্বের অনেক প্রান্তেই লুপ্তপ্রায় প্রজাতি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ অ্যামাজন নদীতে শুশুকদের কল্যাণে অভিনব এক প্রকল্প চালানো হচ্ছে।

ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর নেতৃত্বে এক অভিযানের আওতায় এই প্রথম ব্রাজিলের অ্যামাজন অঞ্চলে শুশুকদের পরীক্ষা করা হয়েছে৷ অ্যামাজনের এক শাখানদীতে এক শুশুক মা তার শাবককে ডাঙায় তুলে পরীক্ষা করে তাদের শরীরে জিপিএস ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে৷ অভিযানের প্রধান মার্সোলো  অলিভেইরা বলেন, ‘‘গোলাপি রঙের এই শুশুক প্রজাতি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই সীমিত৷ তাদের বাসস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য পেলেও তাদের সংখ্যা, স্বাস্থ্য, রক্তের স্তর, প্যারাসাইট, বিষক্রিয়ার আশঙ্কা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না৷”

শুশুকদের সার্বিক চেকআপের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ পশু চিকিৎসক, মেরিন বায়োলজিস্ট, জেলে ও প্রকৃতি সংরক্ষণকারীরা এই প্রথম একসঙ্গে কাজ করছেন৷ খুব দ্রুত কাজ সারতে হয়, কারণ ডলফিনরা ডাঙার উপর বেশিক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে না৷ এর আগে কখনো কোনো গোলাপি শুশুকের উপর আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা চালানো হয়নি৷ পশু চিকিৎসকের জন্যও এটা সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা৷

তবে সোনার খোঁজে যে পারদ ব্যবহার করা হয়, তা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ শেষ পর্যন্ত এই পদার্থ মানুষ ও শুশুকের খাদ্যে স্থান পায়৷ তার ফলে এই প্রাণীদের কী হয়, গবেষকরা তা জানতে চান৷

প্রথমবার এক শুশুকের শরীরে ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে৷ জালে শুশুক ধরতে মাঝে মাঝে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে৷ প্রায়ই তারা পালাতে সমর্থ হয়৷ কলম্বিয়া ও বলিভিয়ায়ও ডলফিন পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ এলাকার অন্যান্য দেশেও এমন পরীক্ষা চালানো হবে৷ ডাব্লিউডাব্লিউএফ এর মাধ্যমে গোটা অ্যামাজন এলাকায় ডলফিনদের সার্বিক অবস্থার চিত্র পাবার আশা করছে৷ সেখানে বেশিরভাগ প্রাণী অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের, তাদের ওজনও বড় কম৷ ৭০ কিলোগ্রামের বেশি ওজনের প্রায় কোনো ডলফিন নেই৷

নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দনের উপর একটানা নজর রাখা হচ্ছে৷ এ যাত্রায় সব কাজ দ্রুত হয়েছে৷ আধ ঘণ্টাও সময় লাগে নি৷ জিপিএস ট্রান্সমিটারও চালু হয়ে গেছে৷ সেটি পাখনায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ প্রকল্পের অন্যতম গবেষক মিরিয়াম মারমন্টেল বলেন, ‘‘আমরা তাদের সঙ্গে কী করছি, প্রাণীরা ঠিক তা বুঝতে পারে৷ তবে বায়োপ্সি করা বা ট্রান্সমিটার বসানোর সময় আমরা শরীরের সেই অংশ আগে অসাড় করে দেই৷”

পরীক্ষার শেষে শুশুকটিকে দ্রুত আবার পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয়৷ ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর আশা, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গোলাপি রংয়ের নদীর এই শুশুককে লুপ্তপ্রায় প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে৷

সেটা হলে তাদের ইকোসিস্টেমের জন্য আরও বেশি সুরক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে৷

LEAVE A REPLY

6 + one =